জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (United Nations General Assembly) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকৌরিস পান ৯১ ভোট। অর্থাৎ ৮ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন বাংলাদেশি প্রার্থী।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকটির একটি করে ভোটাধিকার ছিল। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থীই সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। সেই নিয়ম অনুযায়ী এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য নির্ধারিত পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।
ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতা জয়ী করতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশকে সমর্থনের জন্য ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন করেছে, যা এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
এই বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও কোনো বাংলাদেশি প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন। এর আগে ১৯৮৬–৮৭ সালে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন শুধু একটি পদ জয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নেতৃত্ব পাওয়া দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ড. খলিলুর রহমানের এই জয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই সাফল্য ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও বাড়াবে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর জানা যায়, মোট ১৯৩ ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৯১ ভোট। এই ব্যবধানই তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে।
এই অর্জন বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।