বরিশাল নগরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আকস্মিকভাবে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পুলিশ হত্যার বিচার দাবিতে স্লোগান দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বেলা আড়াইটার দিকে বিবিরপুকুর এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি কাকুলীর মোড় এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে দিয়ে অগ্রসর হয়। মিছিলটি স্বল্প সময়ের জন্য সদর রোড এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি পাওয়ার আগেই অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে।
প্রায় ৩০ জনের মতো ব্যক্তি এই মিছিলে অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তারা সড়কে কিছু সময় অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পুলিশ হত্যার বিচার দাবি লেখা ছিল। ব্যানারে দলটির শীর্ষ নেতাদের ছবিও দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই পরিচয় গোপনের চেষ্টা করেন। তাদের অনেকের মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক ছিল, কেউ কেউ কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকেছিলেন। পাশাপাশি কিছু ব্যক্তি চশমা ব্যবহার করায় তাদের শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ সড়কে অবস্থান নেওয়ার পর তারা আশপাশের গলির দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলাকা ত্যাগ করে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এই কর্মসূচির পেছনে সিটি করপোরেশনের সাবেক এক কাউন্সিলরের উদ্যোগ থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় বরিশাল নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা তেমনভাবে দৃশ্যমান ছিল না বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। তবে মিছিল শেষ হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পায়। এরপরও এলাকাবাসীর মধ্যে এ ধরনের আকস্মিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দেয়।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন-উল ইসলাম জানিয়েছেন, জুমার নামাজের পর নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু কর্মী কাকুলীর মোড় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের অদূরে ঝটিকা মিছিল করেছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা দ্রুত সটকে পড়ে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং মিছিলকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে আকস্মিক এই মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ব্যস্ত সদর রোড এলাকায় এমন কর্মসূচি জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশাসন বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।