ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিলে অবস্থিত ইতালির একটি সামরিক ঘাঁটিতে রাতে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইতালির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সেখানে অবস্থানরত ইতালীয় সেনারা সবাই নিরাপদ আছেন বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে। প্রথমদিকে মন্ত্রণালয় এটিকে ইরবিলে অবস্থিত ইতালীয় সামরিক ঘাঁটির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
তবে পরবর্তী তদন্তে মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানায়, এটি আসলে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোনটি সম্ভবত দুর্ঘটনাবশত একটি সামরিক যান ধ্বংস করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনায় ইতালীয় সেনাদের মধ্যে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সবাই নিরাপদ অবস্থায় রয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ড্রোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে ইতালীয় সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের ধারণা, ড্রোনটি হয়তো উচ্চতা হারানোর পর দুর্ঘটনাবশত ঘাঁটির কাছাকাছি আঘাত হানে।
ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজ্জোত্তি ইতালির সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-কে জানান, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই সম্ভাব্য আকাশ হামলার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
এই সতর্কবার্তার পর ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং বাংকারে আশ্রয় নেন। ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও জানান, হামলাটি কোথা থেকে এসেছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
হামলার পর সতর্কতা জারি করা হলেও পরে বিমান হামলার সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো ঘটনাস্থল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ইরবিলে বর্তমানে প্রায় ৩০০ ইতালীয় সেনা মোতায়েন রয়েছেন। তারা মূলত কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন।
এই সেনারা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান করছেন এবং স্থানীয় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছেন।
তবে ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজ্জোত্তির মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার কারণে ওই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় কিছু সেনা সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কসমিক ডেস্ক