ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে আলোচনা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে আলোচনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 23, 2026 ইং
ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে আলোচনা ছবির ক্যাপশন:

ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী মানবাধিকার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, দেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

বুধবার (২০ মে) সংগঠনটির ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবস্থান, তাদের অধিকার এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন এবং সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, জয়ন্তী রায়, ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, সন্তোষ শর্মা, রঞ্জন কর্মকার, তাপস পাল, অতুল চন্দ্র মণ্ডল, কৃষ্ণ দাস, শিমুল সাহা, দীপংকর চন্দ্র শীল, জয়া ভট্টাচার্য এবং সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য। তারা প্রত্যেকে ধর্মীয় বৈষম্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ১৯৭২ সালের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক সংবিধান আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাদের মতে, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা অনেক ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো আচরণের শিকার হচ্ছেন। বিভিন্নভাবে বৈষম্য ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক।

সভায় জাতীয়ভাবে উত্থাপিত সংখ্যালঘুদের আট দফা দাবি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক পদক্ষেপ নেবে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এ সময় বক্তারা আরও বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; বরং এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সচেতন হতে হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় উঠে আসে, একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ধর্মীয় বৈষম্য দূর করে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।

বক্তারা সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে মানবাধিকার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তারা মনে করেন, সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২ এপ্রিল

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২ এপ্রিল