চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের পটকা বিস্ফোরণ, ৩ জন গুরুতর আহত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের পটকা বিস্ফোরণ, ৩ জন গুরুতর আহত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 8, 2026 ইং
চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের পটকা বিস্ফোরণ, ৩ জন গুরুতর আহত ছবির ক্যাপশন:

রবিবার (৮ মার্চ) সকালে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়ায় একটি নির্মাণাধীন মসজিদের ছাদে দিয়াশলাইয়ের বারুদ ব্যবহার করে তৈরি করা ‘পটকা’ বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় তিন শিশু গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় ছিলেন ১৩ বছর বয়সী রনক, যিনি রনকের বাম হাতের কব্জি থেকে পাঁচটি আঙুলই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহতরা ছিলেন— জাকির হোসেনের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রনক (১৩), উজ্জ্বলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হোসাইন (১১) এবং একই শ্রেণির লাল মিয়া (১১)। শিশুরা খেলার ছলে দিয়াশলাইয়ের কাঠি থেকে বারুদ সংগ্রহ করে দেশীয় পদ্ধতিতে ‘পটকা’ তৈরি করছিল। বিস্ফোরণের সময় হঠাৎ করে বড় শব্দ হয় এবং তারা সবাই রক্তাক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে রনকের বাঁ হাতের কবজি থেকে সব আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। রনকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাঈল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি শিশুদের বিপজ্জনক কার্যকলাপের বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং অভিভাবকদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন যেন তারা সন্তানদের কার্যক্রমে নজর রাখেন। তিনি বলেন, “শিশুরা কৌতূহলবশত ইউটিউব বা বড়দের দেখে এসব বিপজ্জনক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। দিয়াশলাইয়ের বারুদ বা দেশীয় বাজি কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, আজকের এই ঘটনা তার প্রমাণ। ছোট একটি অসতর্কতা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করে দিতে পারে।”

এলাকাবাসীর বক্তব্যে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে শিশুদের পটকা তৈরির বিষয়টি কেউ টের পায়নি। ফলে বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো এলাকায় আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে।

এ দুর্ঘটনা শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে যে, সাধারণ অবহেলা এবং সতর্কতার অভাবে ছোটোখাটো খেলাধুলা বড় বিপদে পরিণত হতে পারে। অভিভাবকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা হলো, সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে এবং কী নিয়ে খেলছে তা নিয়মিত নজরদারি করা।

স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন পর্যন্ত আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। এছাড়া, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষামূলক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শিশুরা যে কৌতূহল বা খেলাধুলার কারণে বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে, তা প্রতিরোধ করতে সামাজিক ও পরিবারিক পর্যবেক্ষণ জরুরি।

এই ঘটনায় আলমডাঙ্গা উপজেলায় শোক এবং আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুরা পরিবারের সহায়তায় দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মাশরাফি-সাকিবের ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা, বললেন ক্রীড়া প্রতিম

মাশরাফি-সাকিবের ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা, বললেন ক্রীড়া প্রতিম