বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপকে ঘিরে শুরু হয়েছে উত্তেজনার নতুন অধ্যায়। এবার উত্তর আমেরিকার তিন স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৮ দলীয় বিশ্বকাপ, যা ইতিহাসে অন্যতম বড় ফরম্যাট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাঠে বল গড়ানোর আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ, ভবিষ্যদ্বাণী এবং সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে তুমুল আলোচনা।
বিশ্বখ্যাত ফুটবল বিশ্লেষক ম্যাটেও বোনেত্তি, লুইস মিগুয়েল এচেগারে এবং ব্রায়ান সিয়ারেত্তার আলোচনায় উঠে এসেছে এবারের আসরের শক্তি-দুর্বলতার নানা দিক। তাদের মতে, দল বাড়লেও আসরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই দুই তারকার জন্য এবারের বিশ্বকাপ হতে পারে “লাস্ট ড্যান্স”, যা দেখতে মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এবারের টুর্নামেন্টে বড় চমক দিতে পারে আন্ডারডগ দলগুলো। বিশেষ করে হাইতি, কেপ ভার্দে কিংবা স্কটল্যান্ডের মতো দলগুলো অপ্রত্যাশিত ফল এনে দিতে পারে। বাড়তি দলের অংশগ্রহণের কারণে প্রতিযোগিতা আরও অনিশ্চিত ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কিছু দলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় প্রত্যাশা ও ঝুঁকি। তুরস্ককে এবার একটি সম্ভাব্য “ডার্ক হর্স” হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরদা গুলের ও হাকান কালহানোগলুর মতো তারকায় সমৃদ্ধ দলটি বড় দলগুলোর জন্য হুমকি হতে পারে। একইভাবে জাপানও তাদের ট্যাকটিক্যাল শক্তি দিয়ে বড় অঘটন ঘটাতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও শক্তিশালী ফ্রান্সকে ঘিরে। ব্রায়ান সিয়ারেত্তার মতে, আর্জেন্টিনা তাদের পুরোনো কম্বিনেশনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ায় বড় ধাক্কা খেতে পারে। একইভাবে ফ্রান্সও কঠিন গ্রুপে পড়ে শুরুতেই বিপদে পড়তে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
ইংল্যান্ডকেও ঘিরে রয়েছে দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা ও চাপ। বড় প্রত্যাশা থাকলেও সেই চাপই তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো ঘরের মাঠের সুবিধা পেলেও অতিরিক্ত চাপ তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ, বয়স ৪০ পেরিয়েও, আবারও তার জাদুকরী মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে নিয়েও রয়েছে শেষবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনার আলোচনা।
টুর্নামেন্টের ব্যক্তিগত পুরস্কার গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট নিয়েও চলছে জোর ভবিষ্যদ্বাণী। আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লুইস দিয়াজ, হ্যারি কেইন, ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল—সবাই আছেন আলোচনার কেন্দ্রে।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে অনিশ্চয়তা, নাটকীয়তা এবং রোমাঞ্চে ভরপুর এক টুর্নামেন্ট, যেখানে শক্তিশালী দলগুলোর পাশাপাশি আন্ডারডগদের উত্থানও ইতিহাস বদলে দিতে পারে। ফুটবলবিশ্ব এখন অপেক্ষায়—কে হাসবে শেষ হাসি, আর কে হয়ে যাবে অঘটনের শিকার।
কসমিক ডেস্ক