বিশ্বকাপ ফুটবল আসরকে ঘিরে সাধারণত দলগুলো কৌশল, ফিটনেস, আবহাওয়া ও প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু এবার সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের জন্য প্রস্তুতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে এক অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিত উদ্বেগ—সাপ আতঙ্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কারমেল ভ্যালিতে সুইজারল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এই অঞ্চলটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত হলেও পাহাড়ি এলাকায় বিষাক্ত সাপ, বিশেষ করে র্যাটলস্নেকের উপস্থিতি রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসে দলের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি মানচিত্রের মাধ্যমে।
সে মানচিত্রে অনুশীলন মাঠ, জিম, ড্রেসিংরুমসহ ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করা ছিল। কিন্তু বিশেষভাবে নজর কাড়ে একটি এলাকা, যেটি লাল রঙে চিহ্নিত করে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে—“সাপ প্রবণ এলাকা”। এই অংশটি ক্যাম্পের পাশের পাহাড়ি ঢালে অবস্থিত।
Carmel Valley এলাকায় সাধারণত বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি বেশি থাকে। বিশেষ করে গরম মৌসুমে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সাপ নিচের দিকে নেমে আসার ঝুঁকি থাকে, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি নিরাপত্তা ইস্যু। অতীতে এই এলাকায় হাইকিং বা ট্রেকিং করতে গিয়ে সাপের কামড়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়।
সুইস দলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই নির্দিষ্ট এলাকাটি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুশীলনের সময় কেউ যাতে ভুলক্রমেও পাহাড়ের ওই অংশে না যান, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যদিও বিষয়টি শোনার পর কিছুটা অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে স্থানীয় বাস্তবতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাম্প এলাকা খোলা ও প্রাকৃতিক হওয়ায় বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়।
বিশ্বকাপের আগে সুইজারল্যান্ড দল অবশ্য মাঠের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখছে না। তারা ইতিমধ্যে তাদের প্রস্তুতি ম্যাচ সম্পন্ন করেছে এবং নিজেদের ফর্ম ও কৌশল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে তারা ১-১ গোলে ড্র করেছে, যা তাদের প্রস্তুতির একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দলটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে শেষ মুহূর্তের অনুশীলন ও কৌশলগত প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে। তবে মাঠের বাইরে এই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা তাদের প্রস্তুতিতে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে ছোট ছোট বিষয়ও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবেশ, আবহাওয়া, এবং এমনকি বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিও খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
সব মিলিয়ে সুইস শিবির এখন একদিকে যেমন বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবিলার বাড়তি সতর্কতাও অনুসরণ করছে।
কসমিক ডেস্ক