বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: ভারত, চীন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: ভারত, চীন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 5, 2026 ইং
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: ভারত, চীন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে? ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশে নতুন বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর দেশটির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দেশের অবস্থান কোথায় তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সফর করছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ঐ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এছাড়া চলতি সপ্তাহে ভারতের সফরের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যাত্রা রয়েছে।

গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিদেশ নীতি নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কোনও দেশের দিকে ঝুঁকলে নানা অসুবিধা পেত। উদাহরণস্বরূপ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ ভারতের ঘনিষ্ঠ দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হয়ে যেত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি হতো।

নতুন সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের নীতি নির্দিষ্ট কোনো দেশকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হচ্ছে না। তিনি বলছেন, “আমাদের প্রথম প্রাধান্য বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। আমাদের নীতি হলো, সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কগুলোর প্রতিটিই দেশের স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।”

তবে বাস্তবতায় এটি চ্যালেঞ্জিং। সম্প্রতি বাংলাদেশের ইরান নিয়ে করা বিবৃতিকে ইরান সমালোচনা হিসেবে দেখেছে এবং তারা আরও স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশা করেছিল। একই সময়ে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সমর্থন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দা—এসব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ কি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে কিনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেমন তিস্তা প্রকল্প, বাংলাদেশকে সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, “এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য থাকলে জাতীয় স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। একদেশের পক্ষপাত হলে অন্য দেশের ক্ষোভ দেখা দেয়, যা পররাষ্ট্রনীতিকে জটিল করে।”

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেলের চাহিদা দিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। একইসঙ্গে চীনের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর বলেন, “নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ দেখলে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে হবে, আর চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বজায় রাখতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে গ্রহণ করলে জটিলতা সৃষ্টি হবে।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য যেটি ভালো হবে সেটাই করা হবে। কে কোন দেশের প্রতি খুশি বা নাখোশ হবে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের প্রথম লক্ষ্য দেশের মানুষ।”

সংক্ষেপে, বাংলাদেশ নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নির্দিষ্ট কোনো দেশকে প্রাধান্য না দিয়ে বৈশ্বিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। দেশের স্বার্থ ও মানুষের কল্যাণই প্রাথমিক দিকনির্দেশ। তবে ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র—সবাই একই সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ দেখতে চাইছে, যা বাংলাদেশের জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে ১৬ মার্চ থেকে প্রচার শুরু

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে ১৬ মার্চ থেকে প্রচার শুরু