অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে টালিগঞ্জের বিনোদন অঙ্গনে গভীর শোকের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন। ঘটনাটি ঘটার পাঁচ দিন পর অবশেষে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি রিজেন্ট পার্ক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই পদক্ষেপকে অনেকেই ঘটনার সত্য উদঘাটনের প্রথম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে শিল্পীদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তসহ আরও অনেক শিল্পী। বৈঠকে রাহুলের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ শিরোনামে একটি মিছিল আয়োজনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এই মিছিলটি বিকেলে টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে শুরু হওয়ার কথা, যেখানে শিল্পী, কলাকুশলী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। আয়োজকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে কোনো রাজনৈতিক রং দেওয়া হবে না।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। ওডিশার তালসারি সমুদ্রসৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালে সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। তবে ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ভিন্নতা থাকায় রহস্য আরও গভীর হয়েছে।
কিছু প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। আবার অন্যদের মতে, সহ-অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজের জীবন হারান। এই দুই ধরনের বর্ণনার মধ্যে কোনো একটিকেও এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে প্রযোজনা সংস্থার দেওয়া তথ্য ও শুটিংয়ের ভিডিও ফুটেজের মধ্যে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর আগেই শিল্পী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রযোজনা সংস্থাকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কিন্তু প্রাপ্ত জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
এরও আগে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর বাসভবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল এবং দেবসহ আরও অনেকে। সেই বৈঠকেও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালোভাবে তোলা হয়।
সব মিলিয়ে, রাহুলের এই অকাল মৃত্যু এখনো ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন। এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো অবহেলা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে—এই প্রশ্নগুলো এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে পরিবার, সহকর্মী এবং ভক্তরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় অনেকে আশা করছেন, খুব শিগগিরই এই রহস্যের জট খুলতে শুরু করবে।