ইরানে হাসপাতাল-মসজিদে হামলার অভিযোগ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরানে হাসপাতাল-মসজিদে হামলার অভিযোগ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 3, 2026 ইং
ইরানে হাসপাতাল-মসজিদে হামলার অভিযোগ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে Iran-এর স্বাস্থ্যখাত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা World Health Organization জানিয়েছে, চলমান হামলায় অন্তত ১৩টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক Tedros Adhanom Ghebreyesus এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো সবসময় সুরক্ষিত থাকার কথা এবং এগুলোকে কোনোভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।

তিনি সতর্ক করেন, এই হামলার ফলে ইরানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আহত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংঘাতের প্রভাব কেবল স্বাস্থ্যখাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জানজান শহরের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড হোসাইনিয়া মসজিদে বিমান হামলায় ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভবনটির গম্বুজ ও মিনারের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইরানের ২৯টি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে অন্তত চারটি স্থাপনা যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেহরানের গোলেস্তান প্যালেস, ইসফাহানের চেহেল সোতুন প্যালেস, মাসজেদ-ই জামে মসজিদ এবং খোররামাবাদ অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।

তেহরান সিটি কাউন্সিলের ঐতিহ্য কমিটির প্রধান আহমদ আলাভি জানিয়েছেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত ১২০টি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্বেল প্যালেস, তৈমুরতাশ হাউস এবং সাদাবাদ প্যালেস কমপ্লেক্সও রয়েছে।

এই সংঘাতের মানবিক প্রভাবও ক্রমেই বাড়ছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি স্কুলে হামলায় কয়েক ডজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তেহরান থেকে প্রায় এক লাখ এবং লেবানন থেকে আরও ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হয়েছে। দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি লজিস্টিক হাবের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা এবং আকাশসীমা বন্ধ থাকায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের চিকিৎসা সামগ্রী ইরানে পৌঁছাতে পারছে না।

এই পরিস্থিতির প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পোলিও নির্মূল কর্মসূচি এবং গাজা উপত্যকার জন্য নির্ধারিত ওষুধ সরবরাহও এতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি এই সংঘাতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তবে তার প্রভাব হবে ভয়াবহ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানে চলমান এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং একটি বড় মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আজান দিলেই আশপাশে সাপ, রাজশাহীর প্রাচীন মসজিদ ঘিরে বিস্ময়

আজান দিলেই আশপাশে সাপ, রাজশাহীর প্রাচীন মসজিদ ঘিরে বিস্ময়