ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে যাওয়া একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজের নিহত নাবিকদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে Sri Lanka।
শুক্রবার শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই ঘটনায় নিহত ৮৪ ইরানি নাবিকের মরদেহ ইরানে পাঠানো হচ্ছে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে গত ৪ মার্চ একটি টর্পেডো হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ফ্রিগেট IRIS Dena ডুবে যায়।
এই হামলায় জাহাজটিতে থাকা বহু নাবিক নিহত হন।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তুষারা রদ্রিগো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছেন, নিহত নাবিকদের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মরদেহগুলো গ্রহণ করার জন্য ইরান একটি চার্টার্ড বিমান পাঠিয়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহগুলো বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে সিল করা বাক্সে রাখা হয়েছে।
এসব মরদেহ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত Mattala Rajapaksa International Airport থেকে ইরানে পাঠানো হবে।
শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই প্রথম দফায় ৪৬টি মরদেহ বিমানবন্দরে পৌঁছে গেছে এবং সেগুলো চার্টার্ড কার্গো বিমানে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে ভারত মহাসাগর থেকে উদ্ধার করা মরদেহগুলো শ্রীলঙ্কার গলের কারাপিতিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে প্রত্যেকটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
পরে স্থানীয় আদালতের নির্দেশে মরদেহগুলো কলম্বোয় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে সেগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে পাঠানো যায়।
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী জানিয়েছে, ওই দুর্ঘটনার সময় তারা সমুদ্র থেকে ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া এসব নাবিক আপাতত শ্রীলঙ্কাতেই অবস্থান করছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সামুদ্রিক সামরিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাটির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো সামরিক বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কসমিক ডেস্ক