ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দেশটির গামো অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া প্রবল বৃষ্টির ফলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গামো অঞ্চলের যোগাযোগ বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিশেষ করে দেগামা এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। এই ঘটনায় অঞ্চল প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, প্রবল বৃষ্টির ফলে এলাকায় হঠাৎ করেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে মানুষের জীবন ও সম্পদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
ইথিওপিয়ার এই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার কারণে অনেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বন্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কয়েকটি দেশে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
গত শুক্রবার প্রতিবেশী দেশ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা দেখা দেয়। এতে সেখানে ডজনখানেক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এই অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি অবকাঠামো এবং জনজীবনেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী বর্ষণ এবং আকস্মিক বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত দুই দশকে পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে কখনো দীর্ঘ খরা, আবার কখনো অতিবৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গত ২০ বছরে পূর্ব আফ্রিকায় শুষ্ক মৌসুম ও অতিবৃষ্টির সময়কাল উভয়ই বেড়েছে। এর ফলে অঞ্চলটির জলবায়ু পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক