আমরা সাধারণত Antarctica বলতে বুঝি বিশাল বরফের স্তর, হিমবাহ আর পেঙ্গুইনের আবাসস্থল। কিন্তু কোটি কোটি বছর আগে এই মহাদেশের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন এটি ছিল উষ্ণ আবহাওয়ার একটি অঞ্চল, যেখানে ঘন জঙ্গল ছিল এবং ডাইনোসরসহ নানা প্রাণীর বসবাস ছিল।
গন্ডোয়ানা মহাদেশের অংশ
আজ থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর মানচিত্র আজকের মতো ছিল না। দক্ষিণ গোলার্ধে একটি বিশাল সুপারকন্টিনেন্ট ছিল যার নাম Gondwana। এই বিশাল ভূখণ্ডের মধ্যে বর্তমানের অ্যান্টার্কটিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং দক্ষিণ আমেরিকা একসঙ্গে যুক্ত ছিল।
প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে এই মহাদেশটি ধীরে ধীরে ভাঙতে শুরু করে। টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে বিভিন্ন অংশ আলাদা হয়ে যেতে থাকে এবং নতুন নতুন মহাদেশ তৈরি হয়।
ডাইনোসরের যুগে উষ্ণ অ্যান্টার্কটিকা
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, ডাইনোসরের যুগে অ্যান্টার্কটিকার জলবায়ু ছিল অনেক উষ্ণ। সেখানে ছিল নাতিশীতোষ্ণ রেইনফরেস্ট বা ঘন সবুজ বনভূমি। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী এই অঞ্চলে বসবাস করত।
তখন দক্ষিণ আমেরিকা থেকে প্রাণীরা অ্যান্টার্কটিকার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাতায়াত করত। গবেষকদের মতে, ক্যাঙ্গারুর মতো কিছু মারসুপিয়াল প্রাণীও এই পথ ধরে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল।
মহাদেশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
অ্যান্টার্কটিকার বর্তমান অবস্থায় পৌঁছানোর পেছনে দুটি বড় ভূতাত্ত্বিক ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই বিচ্ছিন্নতার ফলে অ্যান্টার্কটিকা চারদিক থেকে সমুদ্র দ্বারা ঘেরা একটি একক মহাদেশে পরিণত হয়।
শীতল সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি
মহাদেশটি চারদিক থেকে সমুদ্র দ্বারা ঘেরা হয়ে গেলে এর চারপাশে একটি শক্তিশালী ও অত্যন্ত ঠাণ্ডা সমুদ্রস্রোত তৈরি হয়, যাকে বলা হয় Antarctic Circumpolar Current।
এই স্রোত বাইরের উষ্ণ সমুদ্রস্রোতকে অ্যান্টার্কটিকার কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে ধীরে ধীরে মহাদেশের তাপমাত্রা কমতে শুরু করে এবং বরফ জমতে থাকে।
কোটি বছরের এই প্রক্রিয়ায় অ্যান্টার্কটিকা সম্পূর্ণভাবে বরফে ঢাকা পড়ে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে ঠাণ্ডা মহাদেশে পরিণত হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তর সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা Climate Change এর কারণে এই বরফ দ্রুত গলতে শুরু করেছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, যদি এই বরফ দ্রুত গলতে থাকে তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে পারে এবং পৃথিবীর জলবায়ু আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
কসমিক ডেস্ক