বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় দায়বদ্ধ থাকার অঙ্গীকার জানিয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি বলেন, মাতৃভাষা মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে এবং এর মর্যাদা রক্ষায় আমরা সর্বদা দায়বদ্ধ।
ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার রাতেই প্রথমবারের মতো অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলের বিভিন্ন শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারে আসা নেতারা একুশের চেতনাকে ধারণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান। তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিতে জাতি একত্রিত থাকে এবং নতুন প্রজন্মকে তাদের আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত করা প্রয়োজন।
ডা. শফিকুর রহমান ফেসবুক পোস্টে আরও বলেন, “একুশের চেতনাকে ধারণ করা মানে শুধুমাত্র ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা নয়, বরং মানবতার, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতিও দায়বদ্ধ থাকা।” তিনি সবাইকে মাতৃভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং এর চর্চা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
জামায়াতের শীর্ষ নেতারা একযোগে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় দলীয় নেতারা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল শোকের দিন নয়, বরং গৌরব ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দিন।
এদিনের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ডা. শফিকুর রহমান এবং দলের অন্যান্য নেতারা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ উপস্থিতরা অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
একুশের প্রথম প্রহরে এই শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও চেতনার প্রতি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি প্রদর্শিত এই সম্মান দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকেও একুশের চেতনাকে আরও সক্রিয়ভাবে চর্চার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের কর্তব্য।
একুশের চেতনার আলোকে আগামী প্রজন্মকে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। শহীদদের প্রতি প্রদর্শিত এই শ্রদ্ধা নতুন প্রজন্মকে দেশের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধ করবে।
কসমিক ডেস্ক