ভালো ঘুমের জন্য বালিশ ব্যবহারের ৪টি সঠিক অবস্থান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভালো ঘুমের জন্য বালিশ ব্যবহারের ৪টি সঠিক অবস্থান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 30, 2026 ইং
ভালো ঘুমের জন্য বালিশ ব্যবহারের ৪টি সঠিক অবস্থান ছবির ক্যাপশন:

ভালো ঘুম আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেকেই জানেন না, সঠিকভাবে বালিশ ব্যবহার না করলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় বালিশের সঠিক অবস্থান মেরুদণ্ডকে সঠিকভাবে সমর্থন দেয় এবং শরীরকে আরামদায়ক রাখতে সাহায্য করে।

প্রথমত, মাথা ও ঘাড়ের নিচে বালিশ ব্যবহারের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বালিশের মূল কাজ হলো মাথা ও ঘাড়কে সাপোর্ট দেওয়া, কাঁধকে নয়। চিত হয়ে ঘুমানোর সময় বালিশ এমনভাবে রাখতে হবে যাতে ঘাড় স্বাভাবিক অবস্থানে থাকে এবং মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। আবার যারা পাশ ফিরে ঘুমান, তাদের এমন পুরুত্বের বালিশ ব্যবহার করা উচিত যাতে মাথা মেরুদণ্ডের সঙ্গে সরলরেখায় থাকে। এতে ঘাড় ঝুলে যাওয়া বা অতিরিক্ত উঁচু হয়ে থাকার ঝুঁকি কমে।

দ্বিতীয়ত, যারা চিত হয়ে ঘুমান তাদের জন্য হাঁটুর নিচে একটি বালিশ রাখা অত্যন্ত উপকারী। এটি কোমরের নিচের অংশের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে এবং পিঠের পেশি শিথিল থাকে। নিয়মিত এই অভ্যাস অনুসরণ করলে কোমর ব্যথা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তৃতীয়ত, পাশ ফিরে ঘুমানোর সময় দুই হাঁটুর মাঝখানে একটি বালিশ রাখা একটি ভালো অভ্যাস। এটি পেলভিসকে সঠিক অবস্থানে রাখতে সাহায্য করে এবং কোমরের নিচের অংশে অপ্রয়োজনীয় টান পড়া থেকে রক্ষা করে। এর ফলে হিপ ও মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে এবং ঘুম আরও আরামদায়ক হয়।

চতুর্থত, যদিও উপুড় হয়ে ঘুমানো খুব বেশি স্বাস্থ্যসম্মত নয়, তবুও অনেকেই এই ভঙ্গিতে ঘুমাতে অভ্যস্ত। তাদের ক্ষেত্রে মাথার নিচে খুব পাতলা বালিশ ব্যবহার করা উচিত অথবা বালিশ ছাড়া ঘুমানো যেতে পারে। তবে মেরুদণ্ডের চাপ কমানোর জন্য তলপেট বা পেলভিসের নিচে একটি পাতলা বালিশ রাখা ভালো, যা কোমরের অতিরিক্ত বক্রতা কমাতে সাহায্য করে।

বালিশ ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক বালিশ নির্বাচন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমন বালিশ বেছে নেওয়া উচিত যা খুব বেশি উঁচু বা নিচু নয়। মেমোরি ফোম বা ল্যাটেক্সের বালিশ ভালো, কারণ এগুলো মাথা ও ঘাড়ের আকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং সঠিক সাপোর্ট দেয়। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে প্রতি এক থেকে দুই বছর অন্তর বালিশ পরিবর্তন করা উচিত।

ভুলভাবে বালিশ ব্যবহার করলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে ব্যথা, পেশিতে টান, হাত-পা ঝিনঝিন করা বা অবশ ভাব। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, সঠিকভাবে বালিশ ব্যবহার করা শুধু আরামদায়ক ঘুমের জন্যই নয়, বরং এটি আপনার মেরুদণ্ডের সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন এনে আপনি পেতে পারেন একটি আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর ঘুম। যদি নিয়মিত ব্যথা বা ঘুমের সমস্যা থেকে যায়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের পূর্বাচল প্লট মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি

শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের পূর্বাচল প্লট মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি