ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা, বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা, বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 9, 2026 ইং
ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা, বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে ছবির ক্যাপশন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং চলতি বছরে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বিলম্বিত হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে খুচরা পণ্যের দাম বাড়বে এবং অনেক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম যদি ১০ শতাংশ বাড়ে এবং এক বছর ধরে তা স্থায়ী থাকে, তাহলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ০.১ থেকে ০.২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ধারাবাহিক বৈশ্বিক ধাক্কা সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতি এখনো সহনশীলতা দেখিয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে।

তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি সংকটের একমাত্র কারণ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শেয়ারের অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক নীতির কারণে বাজারে আগে থেকেই অনিশ্চয়তা ছিল। এর সঙ্গে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যুক্ত হওয়ায় আর্থিক বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তেলের সরবরাহ ১ শতাংশ কমলে দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদি হরমুজ প্রণালি কয়েক মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে যুক্তরাজ্য ও ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ০.৫ থেকে ০.৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এখনো ২ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৭ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় দেশটির খুচরা জ্বালানির দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খেতে পারে। যুক্তরাজ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস ডি গুইন্ডোস সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এতে অনেক দেশে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সান অ্যালার্জি কি এবং কেন হয়?

সান অ্যালার্জি কি এবং কেন হয়?