ঢাকায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে সৃষ্ট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা শহরের বিভিন্ন সড়কে পৃথকভাবে এসব বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মোটরসাইকেল অংশ নেয় এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা প্রতিবাদ জানায়।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন লিটন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মাসুদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেল। নেতারা অভিযোগ করেন, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া অনুচিত এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার গোসল সম্পন্ন হয় এবং সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভোলায় বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রাতের বেলায় বিক্ষোভে নামেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জানাজার পরিবেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এদিকে তোফায়েল আহমেদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার মরদেহ নিজ জেলা ভোলায় নিয়ে যাওয়া হবে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ২টায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দক্ষিণ দিঘলদী কোড়ালিয়া গ্রামে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রতিবাদ কর্মসূচি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, একটি জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
কসমিক ডেস্ক