ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা এবার শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং ছড়িয়ে পড়ছে সংগীত, সংস্কৃতি এবং বিশ্বজুড়ে বিনোদনের মহাযজ্ঞে। এবারের ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে ব্যতিক্রমীভাবে তিনটি দেশে—মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে। দুই দিনের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন ফুটবল ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
উদ্বোধনী উৎসবের মূল আকর্ষণ হবে বিশ্ববিখ্যাত সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা। কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা, মার্কিন পপ আইকন কেটি পেরি, কে-পপ সেনসেশন লিসা (BLACKPINK), এবং বাংলাদেশি-মার্কিন ডিজে সঞ্জয়সহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক শিল্পী মঞ্চ মাতাবেন এই আয়োজনে।
মেক্সিকো সিটি: উদ্বোধনের সূচনা
১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে শুরু হবে মূল উদ্বোধনী আয়োজন। স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামে হবে জমকালো অনুষ্ঠান। এতে আদিবাসী সংস্কৃতি, আধুনিক লোকজ পরিবেশনা এবং ‘পাপেল পিকাদো’ আর্টের মাধ্যমে মেক্সিকান ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।
এই মঞ্চে পারফর্ম করবেন শাকিরা এবং আফ্রিকান শিল্পী বার্না বয়। তাঁদের যৌথ পরিবেশনা ‘ডাই ডাই’ দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করবে। আয়োজকদের মতে, এই গানটি ঐক্য ও উদযাপনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের বিভিন্ন শিল্পীও এখানে পারফর্ম করবেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে।
টরন্টো: কানাডার সংস্কৃতির ঝলক
১২ জুন কানাডার টরন্টোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে স্বাগতিক দলের ম্যাচকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এখানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হবে সংগীতের মাধ্যমে।
এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, আলেসিয়া কারা, জেসি রেয়েজ, নোরা ফাতেহি এবং ভেজেড্রিমসহ আরও অনেকে। বিভিন্ন ঘরানার সংগীত এক মঞ্চে উপস্থাপন করে কানাডার বৈচিত্র্য তুলে ধরাই হবে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
লস অ্যাঞ্জেলেস: শেষ দিনের জমকালো সমাপ্তি
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে স্বাগতিক দলের ম্যাচকে কেন্দ্র করে হবে আরেকটি বড় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এখানে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, লিসা, রেমা, টাইলা, ফিউচার এবং আনিতা।
বিশ্বকাপের এই অংশটি মূলত আধুনিক পপ সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক সংগীত প্রবণতাকে তুলে ধরবে বলে আয়োজকদের আশা। বিশেষ করে কেটি পেরি ও লিসার পারফরম্যান্স নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপে নতুন বিনোদনের যুগ
আয়োজকদের মতে, এবার বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক উৎসব। তিন দেশে দুই দিনের এই আয়োজন দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
ফুটবল ও সংগীতের এই মিলন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের আবেগকে এক সুতোয় বাঁধবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড ভ্যালুকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, যেখানে মাঠের খেলায় যেমন থাকবে উত্তেজনা, তেমনি মঞ্চে থাকবে বিশ্বতারকাদের ঝলক।
কসমিক ডেস্ক