যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতের এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৪০ জন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবিসির বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি অবকাঠামো ও সক্রিয় যোদ্ধার অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার ও মারজাইউন জেলার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালানো হয়। বুর্জ আল-শেমালি, হাব্বুশ, মারাকেহ, সেলা এবং কাওতারিয়াত আল-রুজসহ একাধিক শহর ও গ্রাম এই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বুর্জ আল-শেমালি এলাকায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে দুটি শিশু ও তিন নারীসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট।
এ ছাড়া কাওতারিয়াত আল-রুজ এলাকায় পাঁচজন, হাব্বুশে চারজন এবং মারাকেহ এলাকায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা রাতভর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়েছেন।
লেবাননের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও ইসরায়েল নিয়মিতভাবে আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, এসব হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে এবং পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে লেবাননে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতের কারণে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক