দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৬১৬ জন রোগী।
শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া এবং শিশুদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নতুন করে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই শিশু। তাদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া এবং কাশি—এ ধরনের উপসর্গ দেখা গেছে, যা সাধারণত হামের লক্ষণ হিসেবে পরিচিত।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে হাম গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে এবং জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এ কারণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সংক্রমণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের যত্ন নেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনা স্বাস্থ্যখাতে নতুন করে সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
কসমিক ডেস্ক