সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, ক্ষমতায় আসার পর ড. ইউনূসও আগের রাজনীতিবিদদের মতো নীতি ও শাসনধারা অনুসরণ করেছেন। তিনি এই মন্তব্যটি একটি ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত ভিডিওতে করেছেন। খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, দিনের পর দিন তিনি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেও, ইউনূস যখন ক্ষমতায় পৌঁছান, তখন তার শাসনশৈলী আগের রাজনীতিবিদদের মতোই ছিল।
তিনি কয়েকটি উদাহরণ স্মরণ করান। প্রথমত, নিজের ক্ষমতা গ্রহণের পরই ইউনূস নিজেকে মামলা থেকে মুক্ত করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৬৬৬ কোটি টাকা কর মকুফ পান। এছাড়া শুধু গ্রামীণ ব্যাংক নয়, গ্রামীণ সংক্রান্ত যাবতীয় সুবিধা জীবনের জন্য নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করেন। খালেদ মুহিউদ্দীন উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় নীতিগত স্বচ্ছতা এবং জনকল্যাণের দিক প্রাধান্য পায়নি।
সাংবাদিক বলেন, “শান্তির নোবেল পুরস্কার অর্জন করা এক জিনিস, কিন্তু দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা আর কার্যকর প্রশাসন পরিচালনা একেবারে আলাদা বিষয়। ড. ইউনূসের দেড় বছরের শাসনকালে বাংলাদেশে প্রশাসনিক ব্যর্থতা চোখে পড়ার মতো ছিল। এমন ধরনের শাসন আগে কখনো দেশ দেখেনি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য শুধুমাত্র সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর সাহেব বা পুলিশকে দায়ী করা উচিত নয়, বরং শাসনকালে নেওয়া নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য ড. ইউনূসকেও দায়িত্ব নিতে হবে।
খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন তোলেন, যদি শেখ হাসিনার আমলে প্রতিটি ব্যর্থতা ও সমস্যা তাঁর দায়িত্বের আওতায় আসে, তাহলে ইউনূসের শাসনকালে সমস্ত ব্যর্থতার জন্য তিনি কেন দায়ী হবেন না? তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসে আগের রাজনীতিবিদদের মতোই কার্যক্রম পরিচালনা করা দেশের শান্তি ও প্রশাসনের জন্য অনুকূল ছিল না।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের জন্য ন্যায্য ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে, শাসক নেতাদের কৌশলগত নীতি, দায়িত্বশীলতা এবং ন্যায়সঙ্গত কর্মকাণ্ড অনুসরণ করা আবশ্যক। অন্যথায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী এবং জনগণকেই নিতে হয়।
সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, নোবেল বিজেতা হওয়া মানেই দেশের শান্তি ও জনকল্যাণের নিশ্চয়তা নয়। শক্তিশালী প্রশাসন, নীতি-নির্ভর শাসন এবং জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা কার্যকর না হলে দেশে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকবে। তিনি দেশের নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উপরও জোর দেন, যাতে ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীন নেতা ও প্রশাসন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে।
সংক্ষেপে, সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ড. ইউনূসের শাসন আগের রাজনৈতিক নেতাদের ধাঁচ অনুসরণ করেছে, যা দেশের প্রশাসন ও শান্তিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার উদ্রেক করেছে। তিনি মনে করেন, প্রশাসন ও সরকারের সকল স্তরের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং ন্যায়নিষ্ঠা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
কসমিক ডেস্ক