ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি মন্ত্রিপরিষদ গঠনের প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে জোরালো গুঞ্জন চলছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান–কে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী করা হতে পারে।
বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার, পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় ৩১ দফা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় পর্যায়ে নির্ধারিত হবে।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বেসরকারিভাবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০৩ ভোট পেয়েছেন। তার নির্বাচনী জয়ের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপি অঙ্গনেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নীতিমালার বাস্তবায়নে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন মন্ত্রিপরিষদে এই দায়িত্বে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার থাকায় জাতীয় আবেগ ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা প্রভাবশালী হতে পারে।
ফজলুর রহমান তার রাজনৈতিক কর্মজীবনে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে জড়িত ছিলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলের বর্তমান লক্ষ্য হলো সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে একজন জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ নেতাকে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের বরাতে জানা যায়, ফজলুর রহমান মন্ত্রী হলে তিনি ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন নীতি ও কার্যক্রম চালু করতে পারবেন। এ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নবনির্বাচিত সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপির মন্ত্রিপরিষদে গুরুত্বপূর্ণ ও দক্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ফজলুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনি দলের নীতি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় দক্ষ।
সামগ্রিকভাবে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ফজলুর রহমানের সম্ভাব্য নিয়োগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এই পদে দায়িত্ব পাওয়া হলে তিনি জাতীয় ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংস্কার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।