ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত চারদিনে গোটা মধ্যপ্রাচ্য কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক মহল থেকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হলেও হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সবার মুখে এখন এক প্রশ্ন—এই যুদ্ধ কত দিন চলবে?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুর পর দেশটিতে গভীর জাতীয় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর পরপরই ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধ গ্রহণ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এক বক্তব্যে জানিয়েছেন—ইরানের ওপর হামলা ‘সপ্তাহজুড়ে বা যতদিন প্রয়োজন’ অব্যাহত থাকবে।
তবে পরে তিনি আরও নির্দিষ্ট সময়সীমার ইঙ্গিত দেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ একই গতিতে অভিযান চালিয়ে যেতে পারে। হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের কথা বলেছি, তবে আমাদের সক্ষমতা এর চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে চালানোর।’
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ প্রায় এক মাস চলতে পারে। তার ভাষায়, ‘আমি চাই না এটি খুব দীর্ঘ হোক। আমি সব সময় ভেবেছি এটি চার সপ্তাহ চলবে।’ তবে প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় অভিযান অব্যাহত রাখার সক্ষমতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই যুদ্ধ বছরের পর বছর চলবে না। ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি দ্রুত ও চূড়ান্ত হতে পারে। তার মতে, কিছুটা সময় লাগলেও এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়।
বিশ্ব নেতারা ইতোমধ্যে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
যুদ্ধ কত দিন চলবে—তার সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো অনিশ্চিত। মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতৃত্ব কয়েক সপ্তাহের সময়সীমার কথা বললেও বাস্তবতা নির্ভর করছে সামরিক অগ্রগতি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার ওপর। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন বিশ্ববাসীর প্রধান পর্যবেক্ষণের বিষয়।
কসমিক ডেস্ক