ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গাজা উপত্যকার সব কটি সীমান্ত পথ (ক্রসিং) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সরকারি কার্যক্রম সমন্বয়কারী সংস্থা COGAT শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে। সংস্থাটি জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় গাজা ও পশ্চিম তীরের সব সীমান্ত পয়েন্টে নতুন করে ‘নিরাপত্তা সমন্বয়’ কার্যকর করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজার একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ রাফাহ সীমান্ত দিয়েও সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও ত্রাণ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় বিদেশে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ রোগী, মানবিক সহায়তা কর্মী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের চলাচল স্থগিত রয়েছে।
কোগাটের বিবৃতিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। পাশাপাশি গাজায় কর্মরত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মানবিক সহায়তা কর্মীদের রোটেশন বা যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের দাবি, বর্তমান সীমান্ত বন্ধের ফলে গাজার মানবিক পরিস্থিতিতে ‘তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না’।
ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে ঘিরে মানবাধিকার সংগঠন ও ত্রাণকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, সীমান্ত বন্ধের ফলে গাজার চলমান মানবিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে। গত অক্টোবর মাসে কার্যকর হওয়া তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় যে পরিমাণ ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে বিভিন্ন সংস্থা দাবি করেছে। নতুন করে সীমান্ত বন্ধ থাকলে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে চিকিৎসা খাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ হাজার গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি বিদেশে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় তাদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার পর ইসরায়েলজুড়ে ‘জরুরি অবস্থা’ জারি রয়েছে বলে জানা গেছে। পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভাব গাজার ওপর সরাসরি পড়ছে। সীমান্ত বন্ধের ফলে উপত্যকাটি আবারও কার্যত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, আঞ্চলিক এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয় সংকট আরও গভীর হতে পারে।
বর্তমানে সীমান্ত পুনরায় কবে খুলবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। ফলে গাজাবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।a
কসমিক ডেস্ক