শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেশন অফিসার আশরাফ উদ্দিন এক বহিরাগত নারীকে নিয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভেতরে নাচ-গান করছেন। ভিডিওতে তাদের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি এবং আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফায়ার সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তারা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, এই ঘটনার কারণে স্টেশনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের উচ্চ মান বজায় রাখা জরুরি। এমন ঘটনায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ভিডিওটি তিনি টিকটকের জন্য ধারণ করেছিলেন। তার দাবি, বর্তমানে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরি করেন এবং তিনিও একই উদ্দেশ্যে ভিডিওটি করেছিলেন। তবে সরকারি দপ্তরের ভেতরে এমন ভিডিও ধারণের যৌক্তিকতা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জামালপুর-শেরপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক। তিনি বলেন, একজন স্টেশন অফিসারের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কসমিক ডেস্ক