সাম্প্রতিক সহিংস দাঙ্গায় সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির পর ইরানে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। সোমবার তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে সরকারবিরোধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে সংঘটিত সহিংস দাঙ্গায় বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত ইরানিদের স্মরণে প্রেসিডেন্টসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা জাতীয় শোক পালন করছেন। শোককালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে শোকের আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই জাতীয় শোক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের সময় নিহতদের সম্মানে পালন করা হচ্ছে। সরকার দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় যাদের প্রাণহানি হয়েছে, তারা দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন।
ইরান সরকার সহিংস ঘটনাগুলোকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, দায়ীদের বর্বর কর্মকাণ্ড দায়েশ বা আইএসের সহিংসতার সঙ্গে তুলনীয়। সরকারি ভাষ্যমতে, এসব হামলায় সাধারণ মানুষ, বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন, যার ফলে বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সরকার মনে করছে, এই সহিংসতা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে সংগঠিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজতন্ত্রপন্থি দাঙ্গাকারীরা ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা রাস্তাঘাট অবরোধ, প্রশাসনিক ভবন ও পুলিশ স্টেশনে হামলা চালানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্যকে আহত করেছে। এসব সংঘর্ষে সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানি ঘটে।
ইরান সরকার জানিয়েছে, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক