সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাম বা হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৮টি শিশু মারা গেছে উপসর্গজনিত কারণে এবং বাকি ২টি শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে ৭৩২টি শিশু হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে, যা সংক্রমণের বিস্তার কত দ্রুত হচ্ছে তা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
Measles মূলত একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল রোগ, যা শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশে চলমান এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা একসাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৮৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সময়ে মোট ৫৭৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।
এই তথ্যগুলো দেখাচ্ছে যে, শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত টিকা প্রদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে শিশুদের মধ্যে জ্বর, র্যাশ এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই হামের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক