তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করতে শান্তি আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপসাগরীয় উপকূলে চালানো এসব হামলা ছিল “উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাব”। তাদের দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে উড়ন্ত একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ইরান ভূপাতিত করার পর এই অভিযান চালানো হয়।
সেন্টকম আরও জানায়, তাদের যুদ্ধবিমান দ্রুত অভিযান চালিয়ে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ড্রোন ওই অঞ্চলের নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইরানে হামলায় ব্যবহৃত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। তবে কোন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা।
এদিকে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। সতর্কতামূলক সাইরেনও বেজে ওঠে। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি থাকলেও হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নিশ্চিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ছে, কারণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
রাজনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও এই সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান ও কূটনৈতিক চাপ—উভয় দিকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ মুক্তি এবং আঞ্চলিক সংঘাতসহ একাধিক বিষয়ে গভীর মতবিরোধ রয়ে গেছে, যা শান্তিচুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক