নানা আলোচনা ও রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশের প্রায় পৌনে তেরো কোটি ভোটার সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন।
ভোটের আগের দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনের আগে শেরপুর-৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এবার ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় এবারের নির্বাচন ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অনেক এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশকে উৎসবমুখর বলে মন্তব্য করছেন সাধারণ মানুষ। বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলের পর্যবেক্ষণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কারণে ভোটারদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। ফলে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে জনসাধারণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন বর্তমান ব্যবস্থার জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যে জানা যায়, মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন এক হাজারের বেশি। প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ তরুণ ভোটার এবার প্রথমবার বা নতুন প্রজন্ম হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারা দেশে প্রায় ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট পরিচালনায় কয়েক লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে রয়েছেন। অনেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদাভাবে গণনা করা হবে এবং কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের পর তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব ফলাফল একত্র করার কারণে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে সময় লাগতে পারে এবং তা শুক্রবার পর্যন্ত গড়াতে পারে।
কসমিক ডেস্ক