বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের গোপালবাড়ীসহ দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উদ্যোগের শুভ উদ্বোধন করেন।
কেন্দ্রীয় উদ্বোধনের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার গোপালবাড়ী এলাকায় জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান উপস্থিত উপকারভোগীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। প্রাথমিক পর্যায়ে শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৯৬ জনকে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী ধাপে এই এলাকার মোট ৮৬৮ জন উপকারভোগী এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
ফ্যামিলি কার্ড হাতে পেয়ে স্থানীয় গৃহিণীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অনেকের মোবাইলে কার্ড পাওয়ার আগেই সহায়তার টাকা পৌঁছে গেছে। এক নারী উপকারভোগী বলেন, “কার্ড পাওয়ার আগেই মোবাইলে টাকা চলে এসেছে। এই টাকা আমাদের সংসারের অনেক কাজে লাগবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি।”
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, “সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ মূলত প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে। ইতিমধ্যেই সবার মোবাইলে টাকা পৌঁছে গেছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে এই সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন কাজ করছে। দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।”
কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াজেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ চন্দ্র সরকার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ-উন-নবী সালাম এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাকি কার্ডগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীরা নগদ সহায়তা পাবেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও সংসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগ দেশের নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করবে।
জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকিতে কার্যক্রমটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটি সরকারের প্রান্তিক পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার এই সুবিধা পেলে দেশের নারী ও শিশু কল্যাণে তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
কসমিক ডেস্ক