জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এ ঘটনার কথা জানান।
সাইফুল্লাহ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, দুর্বৃত্তরা তার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন দিয়েছে। পোস্টে তিনি লেখেন, “ইন্নালিল্লাহ, সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে হামলা ও আগুন দিয়েছে। আম্মা ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করতেছেন।”
এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলায় অবস্থিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত—এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাইফুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও রয়েছেন।
এই ঘটনার আগে আরেকটি বিষয় নিয়ে সাইফুল্লাহ আলোচনায় আসেন। গত ৮ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম রাহিদ খান পাভেল। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মারধরের পর শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনার সময় সাইফুল্লাহ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
পরে রাহিদ খান পাভেল অভিযোগ করেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছু নেতাকর্মী তাকে মারধর করেছেন। এ অভিযোগ নিয়ে ক্যাম্পাসেও আলোচনা শুরু হয়।
এর কিছুদিনের মধ্যেই সাইফুল্লাহর গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এখনো পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনাও সামনে আসছে।
সাইফুল্লাহর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের ঘটনাটি সেই উত্তেজনার ধারাবাহিকতা কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাইফুল্লাহর সমর্থকেরা।
কসমিক ডেস্ক