ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন।
নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বিএনপি জোটের ভাগে প্রায় ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে এসব আসনে মনোনয়ন পেতে দল ও সহযোগী সংগঠনের নেত্রীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা ও যোগাযোগ কার্যক্রম।
এই প্রেক্ষাপটে বগুড়া জেলা রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু। দীর্ঘ ৩১ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি বগুড়া থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি বগুড়া জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত লায়লা আরজুমান বানু ধাপে ধাপে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলা পর্যায়ে নারী বিষয়ক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
দলের বিভিন্ন কর্মসূচি, নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে তার উপস্থিতি রয়েছে। সংগঠন শক্তিশালী করা, নারী নেত্রীদের সক্রিয় করা এবং মাঠপর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদারে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সাংবিধানিক বিষয়, নারী অধিকার ও স্থানীয় সরকার কাঠামো নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন। পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূল সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। এই দিকগুলো বিবেচনায় বগুড়ায় নারী নেতৃত্বের আলোচনায় তার নাম সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সংসদে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। সুযোগ পেলে তিনি বগুড়ার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চান এবং নারী অধিকার ও সামাজিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন।
তবে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে স্পষ্টতা আসবে। সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন ঘিরে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক