সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হামলার দায় অস্বীকার করেছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, এই হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই; বরং এটি ইসরাইলের পরিকল্পিত একটি পদক্ষেপ।
প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে হামলা চালায়। রাজধানী তেহরানে চালানো ওই হামলায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসে, যা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তোলে।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে। এই উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাতের চার দিনের মাথায় ৩ মার্চ ভোরে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়।
প্রাথমিকভাবে হামলার ফলে দূতাবাস ভবনে আগুন লাগে এবং আংশিক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়। তবে পরবর্তীতে The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক বেশি ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগুন কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে এবং ভবনের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। তবে আইআরজিসি শুধু হামলার দায়ই অস্বীকার করেনি, বরং ওই প্রতিবেদনেরও সমালোচনা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “এই হামলার সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই।”
আইআরজিসির দাবি, অঞ্চলজুড়ে চলমান কৌশলগত পরিস্থিতি বিবেচনায় এই হামলা “নিশ্চিতভাবে জায়নিস্টদের কাজ।” তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইল এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সংগঠনটি মুসলিম দেশগুলোকেও সতর্ক করে বলেছে, ‘জায়নিস্ট শাসনের ষড়যন্ত্র’ সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ উদ্যোগে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। একটি হামলার দায় কে নেবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক ঘটনা নতুন করে বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। রিয়াদে এই হামলা সেই উত্তেজনারই একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক