বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আজ থেকে শুরু হচ্ছে। এই সিরিজকে সামনে রেখে পাকিস্তান দল নতুন পরিকল্পনায় এগোতে চায় বলে জানিয়েছেন দলের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। বিশেষ করে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পাকিস্তান ইতোমধ্যে ঢাকা সফরের জন্য ঘোষিত দলে ছয়জন নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাদের মধ্য থেকে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই তিনজন ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক অভিষেক হতে পারে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক আফ্রিদি।
ম্যাচের আগের দিন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেন, দল থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এই সিরিজ নতুন খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের একটি ভালো সুযোগ তৈরি করে দেবে।
আফ্রিদি বলেন, দলের লক্ষ্য হলো আগামী বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই তরুণদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, নতুন খেলোয়াড়রা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে পাকিস্তান দলের জন্য তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রথম ম্যাচে সম্ভাব্য তিনজন অভিষেক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তিনি বলেন, সাহেবজাদা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ফরম্যাটে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে এবং লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া হাসিবুল্লাহকে ওপেনিংয়ে খেলানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আর শামিল হোসেনকে ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আফ্রিদি। ফলে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এই তিন ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক অভিষেকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তান দলের কোচ মাইক হেসনও ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে উইকেট পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, উইকেটে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি ঘাস দেখা যাচ্ছে। ফলে ম্যাচে পেস বোলারদের জন্য কিছুটা সহায়ক পরিস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেন, পাকিস্তান ঐতিহ্যগতভাবেই ফাস্ট বোলিংয়ের জন্য পরিচিত। তাই এই ম্যাচেও পেস বোলারদের ওপর ভরসা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, পেসাররা যদি উইকেট এনে দিতে পারে, তাহলে ম্যাচে দলকে এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, যদিও পেস বোলারদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তবুও স্পিনারদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বাংলাদেশ দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পাকিস্তান দল। টাইগার এই বোলারকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আফ্রিদি বলেন, পাকিস্তানের ব্যাটাররা মোস্তাফিজুর রহমানকে বেশ ভালো করেই চেনে। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ এবং পাকিস্তান সুপার লিগেও তার বিপক্ষে খেলেছে অনেক ব্যাটার।
তার মতে, মোস্তাফিজের বোলিং সম্পর্কে ধারণা থাকায় পাকিস্তানের ব্যাটারদের খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করবে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটি পাকিস্তানের জন্য শুধু একটি প্রতিযোগিতামূলক সিরিজ নয়, বরং ভবিষ্যতের দল গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় দল তৈরির দিকেই নজর দিচ্ছে পাকিস্তান।
কসমিক ডেস্ক