আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ব্যবহার করে চোরাচালানকারীরা দেশে অস্ত্র ঢোকাচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বিজিবি। গ্রেপ্তার হওয়া অস্ত্র কারবারিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কমিশনের বিনিময়ে অস্ত্র এনে তা দেশীয় অপরাধী চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে এসব অস্ত্র রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ একাধিক সীমান্ত জেলার নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলো দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ করছে। স্থলপথের পাশাপাশি নদীপথ ও মাছ ধরার ট্রলার ব্যবহার করেও অস্ত্র আনার তথ্য মিলেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, বড় চালান নিরাপদে পার করতে অনেক সময় ছোট চালান ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশের হাতে ধরা দেওয়ার কৌশল নেয় চোরাকারবারিরা। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভ্রান্ত হয় এবং মূল চালান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া কয়েক হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি, যা বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তবে নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত করা না গেলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সীমান্ত নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করার বিকল্প নেই।
কসমিক ডেস্ক