ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী Kyivসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
মঙ্গলবার ভোরে চালানো এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিয়েভ এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর Dnipro। আকস্মিক এই হামলায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে থাকে। কিয়েভে একাধিক স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাত অনুযায়ী, কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। অনেক জায়গায় আগুন ধরে যায় এবং পার্ক করা বহু গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। বিশেষ করে পোদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে পরপর দুটি হামলা হয়, যার ফলে ভবনটির একটি অংশ ধসে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হামলার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় এবং সমন্বিত হামলা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন—দুই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজধানীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।
এই হামলার ফলে ইউক্রেনের সাধারণ জনগণের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই যুদ্ধের কারণে দেশটির বিভিন্ন শহরে অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বড় হামলা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
সব মিলিয়ে, কিয়েভ ও দিনিপ্রোতে রাশিয়ার এই হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের প্রাণহানি, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং চলমান আতঙ্ক—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটপূর্ণ।
কসমিক ডেস্ক