নড়াইল জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সংকট চলমান থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৪৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮০টিতে বর্তমানে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের ডিএসবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর একটি উদাহরণ। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৭৪ সালে জাতীয়করণ হওয়া এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে গত দুই বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী মাহমুদা পারভীন জানান, প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের চাপের কারণে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষক সোনিয়া খানমও। তিনি বলেন, শিক্ষক সংকটের মধ্যেই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, তুলারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃপা সিকদার জানান, ২০১৮ সাল থেকে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও এখনও সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেলেই বেতন পাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা ও অন্যান্য সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষকদের মতে, একজন সহকারী শিক্ষককে একই সঙ্গে পাঠদান, প্রশাসনিক তদারকি, অনলাইন রিপোর্টিং, সরকারি সভা ও নথিপত্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক নেতৃত্বের মূল কেন্দ্র। দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক