শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চাকধ বাজার এলাকায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের একটি কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা দুটি ককটেল ছুড়ে মারলে এর একটি বিস্ফোরিত হয় এবং অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া-ঘড়িসার সড়কের পাশে অবস্থিত ভুমখারা ইউনিয়ন শাখা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি ওই সময় বন্ধ ছিল। আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কারণ ব্যবসায়ীরা তারাবিহ নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে ছিলেন। ফলে বিস্ফোরণের সময় এলাকায় জনসমাগম তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি দ্রুত এসে কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। নিক্ষেপের পরপরই একটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি বিস্ফোরিত না হয়ে সড়কের পাশে পড়ে থাকে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা অবিস্ফোরিত ককটেলটি উদ্ধার করে এবং বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করে। এলাকা ঘিরে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চালানো হয়।
নড়িয়া উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাধারণ সম্পাদক রয়েল মাঝি বলেন, তাদের একটি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। কারা বা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়টি বন্ধ থাকা অবস্থায় সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ঘটনাটি ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর কিছু সময় ধরে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠনের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা অবিস্ফোরিত ককটেলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক