বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বকে আরও গভীরতর করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার Pranay Verma। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ঢাকা–এ ‘শ্রীরামকৃষ্ণের বিশ্বজনীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস–এর ১৯১তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গত মঙ্গলবার থেকে চারদিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সভায় বক্তারা শ্রীরামকৃষ্ণের জীবন, দর্শন ও মানবতাবাদী শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রণয় ভার্মা বলেন, শ্রীরামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক সাধনা দক্ষিণেশ্বরে সম্পন্ন হলেও তার দর্শন কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ‘যত মত তত পথ’—ধর্মের সার্বজনীনতায় তার এই বিশ্বাস ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব যখন বিভাজন ও মেরুকরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা মানবতার কল্যাণে একত্রে কাজ করার প্রেরণা জোগায়। তার দর্শন গ্রহণ, সমন্বয় ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা দেয়; বিচ্ছেদ ও ঘৃণার নয়। এ আদর্শ সামনে রেখে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজ। আরও বক্তব্য রাখেন University of Dhaka–এর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. নুরুজ্জামান এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শিঞ্জিনী সরকারসহ অন্যান্য অতিথিরা।
বক্তারা মনে করেন, আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও সম্প্রীতি জোরদারে সহায়ক হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক