যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এক কর্মকর্তার গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে অ্যালেক্স প্রেটি নামে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হন। চলতি মাসে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে এটি দ্বিতীয়বার কোনো মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা। এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে মিনিয়াপোলিসে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছিলেন।
প্রেটির মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইসিই সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ছোড়েন। পরে এই বিক্ষোভ মিনিয়াপোলিস ছাড়িয়ে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি এবং সান ফ্রান্সিসকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
ফেডারেল কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, নিহত অ্যালেক্স প্রেটির কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতারা। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ফেডারেল সরকারের ওপর ভরসা করা কঠিন।
গভর্নর ওয়ালজসহ অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তারা অবিলম্বে অভিবাসনবিরোধী অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চলমান অভিযানে সাধারণ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর ভূমিকা ও অভিবাসন নীতির কঠোরতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।