রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। রায় ঘোষণার পর তিনি আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের আশা ব্যক্ত করেন।
রবিবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার দুই আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আদালত প্রাঙ্গণে আব্দুল হান্নান মোল্লাকে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তিনি ‘ভি’ চিহ্ন প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজের সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ করেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আদালতের এই রায়ে তিনি খুশি এবং তার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই রায় কার্যকর করা হবে।
আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, তার পরিবারের ওপর নেমে আসা এই ভয়াবহ ঘটনার বিচার পাওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচারের প্রতিফলন দেখতে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে বিচারক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা কঠিন সময়ে তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সমর্থন ও সহমর্মিতার জন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
রামিসার বাবা আরও বলেন, তার পরিবারের জন্য এটি একটি গভীর শোকের ঘটনা হলেও আদালতের রায় তাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে প্রকৃত স্বস্তি মিলবে তখনই, যখন রায় সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি অল্প সময়ের মধ্যেই বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার বিভিন্ন উপাদান পর্যালোচনা করে দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
কসমিক ডেস্ক