কোরবানির ঈদুল আজহার দিন মুসলমানরা ঈদগাহ বা মসজিদে একত্রিত হয়ে ঈদের বিশেষ নামাজ আদায় করেন। এটি শুধু একটি ইবাদত নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই ঈদের দিন সকালে সময়মতো ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করা মুসল্লিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কখনো কখনো ঘুম থেকে দেরিতে ওঠা, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে কারো ঈদের নামাজ ছুটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ঈদের নামাজ কি পরে কাজা হিসেবে আদায় করা যাবে?
ইসলামি ফিকহের আলোচনায় এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের নামাজের কাজা আদায়ের কোনো বিধান নেই। অর্থাৎ ঈদের নামাজ ছুটে গেলে সেটি পরে সাধারণ নামাজের মতো কাজা করে আদায় করা যায় না।
জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনীসহ বিভিন্ন ফিকহি গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদের নামাজ ছুটে গেলে মুসল্লির উচিত আশপাশের অন্য কোনো ঈদের জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করা। যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে তওবা ও ইস্তেগফার করা উচিত।
ফিকহি গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ আছে, ঈদের নামাজ দুই রাকাত। প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত তাকবিরসহ সূরা-কিরাত পড়ে রুকুতে যাওয়া হয়। দ্বিতীয় রাকাতেও নির্দিষ্ট নিয়মে তাকবির আদায় করে নামাজ সম্পন্ন করা হয়। এই বিশেষ পদ্ধতির কারণে ঈদের নামাজ সাধারণ নামাজের মতো কাজা করার বিধান নেই বলে ফিকহবিদরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
অতএব, ঈদের নামাজ ছুটে গেলে হতাশ না হয়ে নিকটস্থ জামাতে অংশ নেওয়া বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করাই ইসলামের নির্দেশিত পথ।
কসমিক ডেস্ক