ভারতের বিহার রাজ্যের Patna শহরে অবস্থিত Khan Global Coaching Institute-এ দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কদমকুয়ান এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Hindu জানিয়েছে।
হামলার সময় একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি কোচিং সেন্টারে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন নিরাপত্তারক্ষী আহত হন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, একটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি এই হামলার পেছনে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে কোচিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা Khan Sir অভিযোগ করেন, কম খরচে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কারণে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। তার দাবি, হামলাকারীরা শুধু ভাঙচুরই করেনি, বরং নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করেছে এবং গুলিও ছুড়েছে।
এই হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে খান স্যারের একটি পুরোনো ভিডিও। ভিডিওটিতে তিনি বাংলাদেশের Rangpur এবং Chattogram অঞ্চল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।
২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তিনি ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সেখানে তিনি রংপুর অঞ্চল দখলের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে মন্তব্য করেন বলে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। ফলে হামলার ঘটনার পাশাপাশি তার পুরোনো বক্তব্যও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
তবে এখন পর্যন্ত হামলার সঙ্গে ওই ভিডিওর কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনা যেমন উদ্বেগ তৈরি করেছে, তেমনি পুরোনো ভিডিও ঘিরে নতুন করে বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পটভূমি স্পষ্ট হওয়া।
কসমিক ডেস্ক