মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নির্ভর করছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করতে পারবে না।
ইরানের এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে। তার এই মন্তব্যের পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে “এক লিটার তেলও” রপ্তানি হতে দেবে না। এই হুমকি বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের দাম ওঠানামা করেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আভাস দিলেও একই সঙ্গে ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সতর্কবার্তার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর মঙ্গলবার সকালে এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক তেলের বাজার অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। যদি উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক