নরসিংদীতে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই আদেশ দেওয়া হয়।
রোববার (১ মার্চ) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসানের আদালত এ সংক্রান্ত আদেশ দেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংদী জজ কোর্টের দ্বিতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাত আসামিকে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন— নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৩৮), হজরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭), সাবেক ইউপি সদস্য আহমদ আলী ওরফে আহমদ দেওয়ান (৬৫), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) এবং মো. আইয়ুব (৩০)। তারা সবাই নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এর আগে ভারতের দিকে পালানোর সময় শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে প্রধান আসামি নূরাকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে হজরত আলীকেও আটক করা হয়। এ নিয়ে মামলার নয় আসামির মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলাটি দায়ের করেন নিহত কিশোরীর মা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরী আমিনার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানা এলাকার কোতালিরচর দড়িকান্দি গ্রামের একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মামলায় ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজন এবং সহায়তাকারী হিসেবে সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আদালতে হাজিরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে সাত আসামিকে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার অগ্রগতি এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, নরসিংদীর এই আলোচিত মামলায় আদালতের রিমান্ড আদেশ তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের কারণ, পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
কসমিক ডেস্ক