মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ দিনের মধ্যে মোট ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বেবিচকের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক ও দেশি এয়ারলাইন্সগুলো তাদের সেবা স্থগিত করেছে। এই প্রভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দৈনন্দিন ফ্লাইট ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ১ মার্চ বাতিল হয় ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এ পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে। এই বন্ধের কারণে উক্ত দেশগুলোতে যাত্রা ও আসা ফ্লাইটগুলো কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রীরা সমস্যার মুখে পড়েছেন। অনেক যাত্রী পূর্ব নির্ধারিত ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষত যারা আন্তর্জাতিক ভ্রমণে যাচ্ছিলেন, তাদের জন্য এটি গুরুতর অসুবিধা তৈরি করেছে। বেবিচক জানাচ্ছে, যাত্রীদের সুবিধার্থে এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণ বা টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করছে।
কাওছার মাহমুদ আরও বলেন, “আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছি। এ ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্সের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হচ্ছে, যাতে কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।”
বেবিচক এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বিমান চলাচল সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রীদের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, তারা ভ্রমণের আগে এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সময়সূচি নিশ্চিত করুন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আকাশসীমা বন্ধের কারণে বাংলাদেশে বিমান চলাচলে এই পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রীদের তথ্য প্রদান, ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি হ্রাসের জন্য সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি দেশের বিমান চলাচলের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে। ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় ইতিবাচক সমন্বয় ও সচেতনতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক