সংস্কার পরিষদের শপথে না যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সংস্কার পরিষদের শপথে না যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 17, 2026 ইং
সংস্কার পরিষদের শপথে না যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ ছবির ক্যাপশন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে শপথ গ্রহণ করেন। তবে একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্যরা সে শপথে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ

শপথ গ্রহণের আগে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কক্সবাজার–১ আসন থেকে নির্বাচিত এই বিএনপি নেতা বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের জন্য একটি ফরম থাকলেও বিএনপির কেউ ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। তার মতে, বিষয়টি এখনো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, ফলে সাংবিধানিকভাবে এ ধরনের শপথ গ্রহণের সুযোগ নেই।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়, তাহলে প্রথমে সেটিকে সংবিধানে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি পরিষদের সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন এবং কীভাবে সেই শপথ সম্পন্ন হবে—এ বিষয়েও সুস্পষ্ট বিধান থাকতে হবে। এসব সাংবিধানিক ধাপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি এ সংক্রান্ত শপথ গ্রহণ করবে না বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিধান বর্তমানে সংবিধানে নেই। বিএনপি শুরু থেকে সংবিধান মেনে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। দলীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত জানানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে দলটির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা। নির্বাচনে জয়লাভের পর মঙ্গলবার নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ নেন।

অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর বর্তানোর কথা রয়েছে। তবে বিএনপির অবস্থান হলো—সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি জাতীয় সংসদে পাস হয়ে যথাযথ বিধান সংযোজনের পরই এ পরিষদের কার্যক্রম ও শপথের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি সামনে রেখে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে। তারা মনে করেন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইনি কাঠামো স্পষ্ট না হলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি তাদের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেছে। এখন নজর থাকবে—সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ও গৃহীত হলে বিএনপি তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে কি না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ঢাকার বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজের নতুন নাম ড. আনোয়ার ল’ কলেজ

ঢাকার বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজের নতুন নাম ড. আনোয়ার ল’ কলেজ