ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে নতুন যাত্রা: সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করল এবিবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে নতুন যাত্রা: সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করল এবিবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 15, 2026 ইং
ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে নতুন যাত্রা: সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করল এবিবি ছবির ক্যাপশন:

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে স্বস্তিদায়ক ও সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।

সোমবার (১৫ জুন) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংক খাতে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করে।

এর আগে রবিবার (১৪ জুন) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারার ক্ষমতাবলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে। এই সিদ্ধান্তে ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে ব্যাংকের পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এবিবির বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত বিষয়টি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এর প্রভাব রয়েছে। তাই দ্রুত ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন ছিল।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ১০ জুনই গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তখনই তারা মত দেন যে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা গেলে ব্যাংক খাতের জন্য তা ইতিবাচক হবে।

এবিবির মতে, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি ক্রমশ রাজনৈতিক রূপ নেওয়ায় ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকের আস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছিল। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রয়োজন ছিল বলে তারা মনে করে।

সংগঠনটি আরও জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পদক্ষেপ ব্যাংক খাতের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। এর মাধ্যমে আমানতকারী, বিনিয়োগকারী এবং অংশীদারদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করে।

এবিবি চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি গ্রাহক, বিপুল পরিমাণ আমানত ও বিনিয়োগ, দেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই ব্যাংকের স্থিতিশীলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক ‘মব’-নির্ভর আন্দোলন থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি ব্যাংকের পরিচালনা, তারল্য এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত সেই উদ্বেগ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এবিবি আরও প্রত্যাশা করে যে ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় থাকবে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটি সতর্ক করে বলে, ব্যাংক খাতে ‘মব’-নির্ভর পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য একটি অশনি সংকেত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সরকারকে আরও গুরুত্ব সহকারে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে এবিবির মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতে আস্থা পুনর্গঠন এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইরানে ‘পারমাণবিক’ বিপর্যয় ঘটানোর চেষ্টা চলছে: রাশিয়ার অভিযোগ

ইরানে ‘পারমাণবিক’ বিপর্যয় ঘটানোর চেষ্টা চলছে: রাশিয়ার অভিযোগ