ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রে মুড়ি বইয়ে একাধিক টিপ সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরুষ বুথের ভোট প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ রিমা ইসলাম কেন্দ্রে এসে ভোট গ্রহণ পুনরায় শুরু করেন। কেন্দ্রটি চারটি গ্রাম নিয়ে গঠিত এবং এখানে মোট ৩,২৮৯ জন ভোটার রয়েছে।
ভোটার রসুল আমিন অভিযোগ করেছেন, ভোট দিতে গেলে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার একাধিক ব্যালটের মুড়ি বইয়ে টিপ সই করিয়ে নেন। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারকে জানান। এছাড়া রসুল আমিন আরও জানিয়েছেন যে, এর আগে আরও ২-৩ জন ভোটারের কাছ থেকেও একইভাবে টিপ সই নেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট অফিসারকে প্রত্যাহার করা হোক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুরুষ বুথের ভোট প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ ছিল, পরে স্বাভাবিকভাবে ভোট গ্রহণ পুনরায় শুরু হয়। তিনি আরও জানান যে, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে কেন্দ্রে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভোট কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ভোটের আশা রাখেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এমন অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হয়। ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন উভয়ই তৎপর রয়েছেন।
ঝিনাইদহের এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ভোট প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো ক্ষুদ্র অনিয়মও কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সব ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি ও অনিয়ম দূর করা অপরিহার্য। এই ঘটনাটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের আস্থাকে অটুট রাখতে একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
ভোটারদের দৃষ্টিতে কেন্দ্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোট গ্রহণ পুনরায় শুরু করা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।