ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, হামলাটি ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার ফল হতে পারে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জড়িত থাকার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই সময় একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র গিয়ে আঘাত করে মিনাব শহরের শাজারা তাইয়েবেহ নামের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। এতে বহু শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৭৫ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। নিহতদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।
ঘটনাটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের শুরুর দিকেই ঘটে বলে জানা গেছে। এ কারণে হামলার দায় কার ওপর বর্তাবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ভুল করে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সময় মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পুরোনো তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি লক্ষ্যবস্তু সঠিক ছিল না বলে এখন ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়টি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি ঘাঁটির কাছে অবস্থিত ছিল। তবে হামলার সময় ওই ভবনটি সামরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির ভবনে রঙিন দেয়ালচিত্র এবং শিশুদের খেলার মাঠ ছিল, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।
তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে বিভিন্ন স্বাধীন বিশ্লেষণেও হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার পর মার্কিন রাজনীতিতেও ভিন্নমত দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই হামলা ইরান নিজেই চালিয়েছে।
তিনি বলেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী হামলার জন্য ইরান দায়ী। তবে নিজের দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্ররা ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, যদি সত্যিই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভুলবশত হামলা চালানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনাটি নতুন করে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক